bogra times
ঢাকাশনিবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ ডাকার তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক নিউজ | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করা এবং তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিত্রায়িত করা মিয়ানমারের একটি পরিকল্পিত অপকৌশল।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি তুলেছিল বাংলাদেশ।

পরিচয় বিকৃতির নেপথ্যে ‘ক্লিনজিং’ জায়েজ করার চেষ্টা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে মিয়ানমার বিশ্ববাসীর নজর ঘুরিয়ে দিতে চায়। ২০১৬-১৭ সালের জাতিগত নিধনযজ্ঞকে ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে বৈধতা দিতেই তারা রোহিঙ্গাদের ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ একে মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান

বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়ের সপক্ষে বেশ কিছু অকাট্য যুক্তি তুলে ধরা হয়:

  • প্রাচীন ইতিহাস: ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার বহু শতাব্দী আগে থেকেই রোহিঙ্গারা সেখানে বসবাস করছে।

  • নামের উৎপত্তি: আরাকানের প্রাচীন রাজধানী ‘রোহাউং’ থেকে তাদের নামের উৎপত্তি, যা বৃহত্তর বাংলায় ‘রোহাং’ বা ‘রোশাং’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি কোনো আমদানিকৃত পরিচয় নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক বহির্নাম।

  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মূলধারার অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা ভোটাধিকারও ভোগ করেছে।

বানোয়াট তথ্য প্রত্যাখ্যান

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল বলে মিয়ানমার যে দাবি করেছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। বাংলাদেশ জানায়, এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই এবং এটি কেবল মিথ্যা প্রচারণার অংশ।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বরখেলাপ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করিয়ে দেয় যে, ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অথচ গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে নেপিডো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার একটি উদ্দেশ্যমূলক প্রক্রিয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ।


উপসংহার: বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানিয়েছে।