bogra times
ঢাকারবিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে ঝুঁকিতে বোরো ধান, আলু ও সরিষা চাষ

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এনাম হক, শেরপুর বগুড়া ঃ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো না থাকা এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকায় চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বোরো চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে আলু ও সরিষা চাষেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি।

উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি, কুসুম্বি ইউনিয়নের আমন, বাগড়া ও খানপুর ইউনিয়নের খাগা এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকরখোলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বীজতলায় চারাগাছ হলদে হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চারার গোড়া পচে গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অনেক কৃষক নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তায় পড়েছেন, যা সময় ও অর্থ দুটো দিক থেকেই চাপ বাড়াচ্ছে।

মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের তীব্র শীতে চারাগাছ ঠিকমতো বাড়ছে না। অনেক জায়গায় পাতা হলদে হয়ে গেছে এবং কিছু অংশ পচে যাচ্ছে। খানপুর ইউনিয়নের খাগা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাদের এলাকায় অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কুয়াশার ক্ষতি কমাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা হচ্ছে।

কুসুম্বি ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাক আহমদ বলেন, এক কাঠা বীজতলা তৈরি করতে আড়াই হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এই শীতে চারা নষ্ট হলে পরে চারা কিনতে গিয়ে আরও বেশি টাকা গুনতে হবে। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বীজতলায় ওষুধ স্প্রে করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন। এ জন্য ৮৭৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত আলু চাষেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই আবহাওয়ায় আলুর লেট ব্লাইট বা নাবি ধসা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পাতা ও কাণ্ড পচিয়ে ফলন ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। রোগের আশঙ্কায় কৃষকরা ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং লোকসানের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬৫ হেক্টর কম।

সরিষা ক্ষেতেও কুয়াশা ও গুমোট আবহাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। পাতায় ও ফলে কালো দাগ পড়ছে এবং দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ফুল পচে ঝরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জাব পোকার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় ৩ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৯০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, শীত ও কুয়াশার সময় বোরো বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আলুর ক্ষেত্রে রোগের পূর্বাভাস পাওয়া গেলে সাত দিন পরপর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক নির্দিষ্ট মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। আর সরিষার ক্ষেত্রে আবহাওয়া অনুকূল হলে ফলন স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।