bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬

বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে শেরপুরে পার্টনার কংগ্রেস

এনাম হকঃ-
মে ১৯, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বিষ ও কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বগুড়ার শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার কংগ্রেস’। এতে কৃষকদের নিরাপদ কৃষিচর্চা, কম খরচে ফসল উৎপাদন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শেরপুর এ কংগ্রেসের আয়োজন করে। আইএফএডি ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়ার জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমির রহমান, সিনিয়র কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মিল্টন রহমান এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সাবেক পৌর মেয়র জানে আলম খোকা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাইম হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোছা. রিপা পারভীনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, পিএফএস ও নন-পিএফএস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কংগ্রেসে বিষ ও কীটনাশকমুক্ত উত্তম কৃষিচর্চা বিষয়ে চারটি সেবা কেন্দ্র বুথ ও প্রদর্শনী স্টল অংশ নেয়। এসব স্টলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।

পার্টনার স্কুলের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, “আগে না বুঝে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে কম পরিমাণে সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং কম খরচে কীভাবে ফসল বাজারজাত করা যায়, তা জানতে পেরেছি।”

কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, “আগে এলোপাতাড়িভাবে চাষাবাদ করতাম। পার্টনার স্কুলের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন নিরাপদ উপায়ে বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারছি।”

অংশগ্রহণকারী মিজানুর রহমান বলেন, “বিষমুক্ত খাদ্য কীভাবে উৎপাদন ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, সে বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।”

সিনিয়র কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার জানান, পার্টনার কংগ্রেসের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অন্য কৃষকদের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সমিতিভুক্ত করে স্থায়ী ফার্মার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে।