bogra times
ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬

সিঙ্গাপুরের কাছে ২.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ২:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সিঙ্গাপুরের কাছে ২.৩ বিলিয়ন (২৩০ কোটি) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল সামরিক বিক্রয় প্যাকেজ (FMS) অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মূল্যায়নে সিঙ্গাপুরকে এই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি অ্যাঙ্কর’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পসেইডন পি-৮এ (P-8A Poseidon) ক্রয়

২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যান চুন সিং-এর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় চারটি বোয়িং পি-৮এ পসেইডন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাথে বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও শিল্প সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন ও গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি (DSCA) জানিয়েছে, এই বিক্রয় প্যাকেজটি সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতাকে আমূল বদলে দেবে। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

  • উন্নত নজরদারি: এটি সিঙ্গাপুরকে বর্তমান ও উদীয়মান সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় একটি উচ্চ-মানের টহল বাহিনী গঠনে সহায়তা করবে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: বিমানগুলো দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি, প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং মার্কিন ও মিত্র নৌবাহিনীর সাথে যৌথ অভিযানে সক্ষম।

  • পারস্পরিক সহযোগিতা: এই সরঞ্জামগুলো সিঙ্গাপুরের জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর সাথে কারিগরি ও অপারেশনাল সমন্বয় (Interoperability) বাড়াবে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

বিপুল পরিমাণ এই সমরাস্ত্র বিক্রি নিয়ে আশ্বস্ত করে DSCA জানিয়েছে যে, এই লেনদেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটাবে না। বরং এটি এই অঞ্চলে উত্তেজনা না বাড়িয়ে স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

বর্তমান অবস্থা

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য বিক্রয় অনুমোদন করেছে এবং আইন অনুযায়ী বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে। কংগ্রেসের পর্যালোচনা শেষে এই লেনদেনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তায় সিঙ্গাপুরের এই নতুন সামরিক সংযোজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।