bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার করতোয়া বাঁচাও: ১১২২ কোটির মেগা প্রকল্প আসছে

এনাম হকঃ-
এপ্রিল ৪, ২০২৬ ৭:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর, বগুড়া: মৃতপ্রায় করতোয়া নদীতে অবশেষে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। দখল, দূষণ ও অবহেলায় বহু বছর ধরে শীর্ণ হয়ে পড়া এই নদীসহ ইছামতী ও গজারিয়া নদী—মোট ২৩০ কিলোমিটার নদীপথ পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা। আগামী সোমবার একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন হলেই শুরু হবে নদী পুনরুজ্জীবনের এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত প্রকল্পে বলা হয়েছে, খননের পর তিনটি নদীতে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরে আসবে। ফলে তীরবর্তী এলাকায় সেচসুবিধা বাড়বে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং নদীতীর ভাঙন, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ‘করতোয়া বাঁচাও’ আন্দোলন করে আসা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়া শহরের অংশে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তীর সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ছাতা স্থাপন ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে শহরের মৃতপ্রায় নদীতে পূর্ণ প্রাণ ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, চার বছর মেয়াদি এই উদ্যোগ ২০৩০ সালের জুন মাসে শেষ হবে। এতে প্রায় ২৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ছয় কিলোমিটার নদীতীর স্লোপ প্রটেকশনের আওতায় আনা হবে। শহরের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ সাড়ে তিন কিলোমিটার তীর রক্ষায় নির্মিত হবে প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ। এ ছাড়া নানা স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রকল্পে।

২০২৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ, সদর, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ—মোট নয়টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে এটি। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে চলবে প্রকল্পের কাজ।

করতোয়া নদীর বর্তমান করুণ অবস্থার জন্য দায়ী এরশাদ সরকারের আমলে উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণ। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বালুতে উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পৌরসভার সব ড্রেনের পানি নদীতে পড়ে পানি দূষিত হয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এদিকে, ফুলজোড় নদী দূষণের অভিযোগে এস আর কেমিক্যালস ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) সহ সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি। পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের নেতৃত্বে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

প্রকল্প অনুমোদন হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী বাঁচলে বাঁচবে তীরবর্তী মানুষের জীবন ও জীবিকা।