bogra times cover image-1
ঢাকাWednesday , 28 October 2026

বগুড়ার গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলোতে সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যাবহার

Link Copied!

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

প্রায় ১৯ বছর পর সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে বগুড়ার চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেটে। প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নির্মিত এসব বাজারের ভবন সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জোড়াতালি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের কাজে ইটের গুঁড়ামিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথভাবে মেরামত না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ভবনগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ বক্তব্য দেননি। কৃষি বিপণন বিভাগ বলছে, অনিয়ম পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে প্রায় ১৯ বছর আগে বগুড়ায় চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাজারগুলোর ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী হাটের গ্রোয়ার্স মার্কেটে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। ভবনগুলোর বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং বিমের নিচে ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রধান ফটকও ভেঙে গেছে।

দুবলাগাড়ী মার্কেটে কর্মরত মিস্ত্রি বিপ্লব জানান, মির্জাপুর, আরডিএ ও দুবলাগাড়ী এই তিন মার্কেটের কাজ তাঁরা তিন লাখ টাকা চুক্তিতে নিয়েছেন। তবে ঠিকাদার দৈনিক মজুরি ঠিকমতো দেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব বলেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না।

স্থানীয় আমিনুর রহমানের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে মানসম্মত উপকরণের বদলে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ইটের গুঁড়ামিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথভাবে মেরামত না করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আরডিএ ও মির্জাপুর এলাকার আবদুল মান্নানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় ১৯ বছর পর ভবনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। এ সময় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হলে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে আবারও প্রশ্ন দেখা দেবে। তাঁদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথভাবে মেরামত না করে শুধু দৃশ্যমান অংশে প্রলেপ দিলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের (এনসিডিপি) আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বগুড়ায় চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালনায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০০৯ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। কৃষি বিপণন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এরপর দীর্ঘ সময় ভবনগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজ ভবনগুলোর সংস্কারকাজ করছে। কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজের দেখভাল করছেন সারওয়ার আলম। তবে দরপত্র ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কাজের মান, ব্যবহৃত উপকরণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সারওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ভবনগুলোতে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে বগুড়া কৃষি বিপণন বিভাগ। এ জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত কাজ তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখা হবে। কাজ যেন সঠিকভাবে হয়, সে চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য, কাজ বুঝে নেওয়ার পরই তা সমাপ্ত করা হবে।

error: Content is protected !!