bogra times cover image-1
ঢাকাWednesday , 11 February 2026

বগুড়া-৫ : নারী, তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে নির্বাচনের ফলাফল

এনাম হকঃ-
February 11, 2026 3:15 pm
Link Copied!

এনাম হক, শেরপুর, বগুড়া থেকে:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল ঘুরপাক খাচ্ছে নারী, তরুণ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বড় ভোটারগোষ্ঠীর সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৪২০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪১ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছেন ৬ জন। পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ১১ হাজার ৬৭৯ জন বেশি হওয়ায় নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই আসনে শেরপুর উপজেলায় ৯৯টি এবং ধুনট উপজেলায় ৮৮টি ভোটকেন্দ্রসহ মোট ১৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা ২০টি এবং মোট ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৪৩টি। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শেরপুর উপজেলায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৪৫ জন। নতুন ভোটারদের বড় অংশ তরুণ হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

এদিকে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন অর্জনেও প্রার্থীদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংখ্যালঘু ভোট অনেক সময় ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এবারও এই ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। উন্নয়নবঞ্চিত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। বিএনপি এই আসনকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। তিনি শেরপুর ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন বাজার, মাঠ-ঘাট ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছে।

এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির খান কুদরত-ই-সাকালায়েন (ছাতা) প্রতীকে। পাঁচ প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকলেও স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন জামায়াত প্রার্থী দবিবুর রহমান। তবে পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিরাজ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রিট আবেদন করা হলেও তা কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়নি এবং শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঘিরে নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেরপুর উপজেলার ৯৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ধুনট উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ১৮৮টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৪৩টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া প্রবাসী ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে নারী, তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি এবং ভোটের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বগুড়া-৫ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

error: Content is protected !!