bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকট : দুই সপ্তাহে মার্কিনীদের ক্ষতি ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
মার্চ ১৬, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের ওঠানামার প্রভাব আবারও প্রকট হয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারে। সাম্প্রতিক লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি৫০০ (S&P500) বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর বাজার নিয়ে গঠিত এই সূচকটি বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সর্বশেষ লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচক ০.৬১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৩২ দশমিক ১৯ পয়েন্টে। চলতি বছর ২০২৬ সালে এটিই সূচকটির এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন অবস্থান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় সূচকটি প্রায় ৫ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে শুরু হয়। ওই দিন সূচকটি ছিল ৬ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে। এরপর থেকে টানা দরপতনের ফলে এখন পর্যন্ত সূচকটি প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে এই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়।

ফলে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তে শুরু করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ে। অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে।

গত দুই সপ্তাহের এই দরপতনের কারণে এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এই সূচকটি শুধু বড় বিনিয়োগকারী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সাধারণ আমেরিকানদের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয় বা রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন পেনশন ফান্ড এবং অন্যান্য বিনিয়োগ তহবিলের বড় অংশ এই সূচকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হলে এসব সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মূল্যও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব পুঁজিবাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতের পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা