bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াওর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, উভয় দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তিটি সাত দফা আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন চুক্তিটিকে “কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চুক্তির সফল বাস্তবায়ন উভয় দেশের সমৃদ্ধির জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

চুক্তির প্রধান সুবিধাসমূহ

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা চালু হবে, যা বাংলাদেশকে কাঁচামালসহ সরাসরি পোশাক রপ্তানির পথ সুগম করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ জাপানের ১,০৩৯টি পণ্যকে পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেবে।

সেবা খাতে যুগান্তকারী প্রবেশ

এ ছাড়া চুক্তির আওতায় জাপানের ১৬টি সেবা খাতে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাজীবীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন। এগুলোর মধ্যে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিং উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশও জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় পণ্যের মান উন্নয়ন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৈচিত্র্যকরণ এবং জাপানের ‘চীন-প্লাস ওয়ান’ কৌশলের অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।