bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাঁতের হাটে বিদেশি ক্রেতা সংকট, কমে গেছে বিক্রি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
মার্চ ১৯, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জ :

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছিল সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় জমান বেলকুচি, সোহাগপুরসহ বিভিন্ন হাটে। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দেশীয় পাইকারদের উপস্থিতি আগের মতো থাকলেও চলতি বছরে এসব হাটে দেখা মেলেনি বিদেশি ক্রেতাদের। ফলে এবারের ঈদে তাঁত শিল্পে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁত মালিকরা।

সরেজমিনে বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, তাঁতের তৈরি নানা ডিজাইনের শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা কিনছেন পছন্দের পণ্য। তবে বিদেশি ক্রেতাদের অনুপস্থিতিতে আগের মতো জমজমাট পরিবেশ নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, ঈদ উপলক্ষে তারা প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছেন। কিন্তু বিদেশি পাইকার না আসায় বিক্রি কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত। এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।’

একই কথা শোনা গেল সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবরের কণ্ঠে। তিনি জানান, প্রতিবছর রমজানের এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁতের সব কাপড় বিক্রি হয়ে যেত। কিন্তু এ বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় এবার বিদেশি পাইকাররা আসতে পারছে না।’

হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার আতাউর রহমান বলেন, ‘কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদামতো কাপড় কিনতে পেরেছি। তবে আগের বছরগুলোতে হাটে দেশি-বিদেশি পাইকারদের যে ব্যাপক আনাগোনা ছিল, এ বছর তা চোখে পড়ছে না।’

সোহাগপুর হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন জানান, দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা হাটে আসতে শুরু করেছেন। তাঁতিরাও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিস তৈরি করেছেন। তবে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি পাইকারদের অনুপস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তাঁতের কাপড়ের হাটে যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হবে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিট সুবিধার বিষয়টি নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, ‘হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা বহুদিন ধরে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সেসব দূর করে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করতে। ট্রানজিট সুবিধার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।’

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর একটি। এখানে উৎপাদিত শাড়ি-লুঙ্গির সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে। কিন্তু ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি ক্রেতারা সরাসরি এসব হাটে আসতে পারছেন না, যা এই শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে।