bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ৪ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের উপস্থিতি, বড় যুদ্ধের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
মে ৪, ২০২৬ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিশ্বখ্যাত উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দিকে অস্বাভাবিক সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির সংকেত দিচ্ছে এসব বিমান।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে পাঠানো বিমানগুলোর সিংহভাগই সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার–৩ মডেলের শক্তিশালী সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ। প্রতিটি উড়োজাহাজ প্রায় ৭৭ টন ভারী যুদ্ধসরঞ্জাম ও ১০০ জন সশস্ত্র সেনাসদস্য বহনে সক্ষম। আল-জাজিরা নিশ্চিত করেছে, অন্তত ১২টি এই ধরনের পরিবহন বিমান জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।

পরিবহন বিমানের পাশাপাশি বোয়িং ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কার’ মডেলের জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজও ওই অঞ্চলের আকাশে সক্রিয় দেখা গেছে। ইসরায়েল ও এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অন্তত চারটি উড়োজাহাজ সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। এই বিশেষায়িত বিমানের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, মার্কিন ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থেকে যেকোনো অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নতুন সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে এই বিশাল সামরিক লজিস্টিক সাপোর্ট যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত বিপুল সংখ্যক সি-১৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে সরঞ্জাম পরিবহন মূলত বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি শক্তিশালী করা অথবা নতুন কোনো ফ্রন্টে যুদ্ধের রসদ পৌঁছানোর অংশ হতে পারে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় আকারের মার্কিন সামরিক মুভমেন্ট।

এদিকে কেউ কেউ একে সম্ভাব্য সংঘাতের মুখে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে দেখলেও অনেকে মনে করছেন, এটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক অনির্দিষ্ট ও গম্ভীর অধ্যায়ের সূচনা। আকাশপথে এই অস্বাভাবিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।