bogra times
ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ ও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন

স্পোর্টস ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই সিদ্ধান্ত জানায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন উইজডেন আইসিসির দ্বিমুখী নীতি বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: মোস্তাফিজ ইস্যু ও নিরাপত্তা শঙ্কা

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির অজুহাতে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিসিআই কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কেবল ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে। বাংলাদেশ এটিকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। বিসিবির যুক্তি ছিল—যদি একজন তারকা খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে পুরো দল, স্টাফ ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

বিসিবি ভারতকে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেও জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি তা নাকচ করে দেয় এবং বাংলাদেশকে ভারতে খেলতেই বাধ্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু আত্মসম্মান ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে অনড় থাকে বাংলাদেশ।

আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তুলনা

উইজডেন তাদের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদাহরণ টেনে এনেছে। সেই সময় পাকিস্তান আয়োজক হলেও ভারত সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি তখন ভারতের দাবি মেনে নিয়ে ‘হাইব্রিড মডেলে’ দুবাইয়ে ভারতের ম্যাচগুলো আয়োজন করে। ভ্রমণের ধকলহীন সেই টুর্নামেন্টে ভারত শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নও হয়।

উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে:

  • ভারত যখন পাকিস্তানে যেতে মানা করে, তখন কেন ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়?

  • বাংলাদেশ যখন একই ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলল, তখন কেন তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হলো?

ক্ষমতার লড়াই ও অর্থনৈতিক প্রভাব

উইজডেনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আইসিসিতে ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রভাব এতটাই বেশি যে তাদের ছাড়া টুর্নামেন্ট অচল হয়ে পড়ার ভয়ে আইসিসি সবসময় নতি স্বীকার করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সেই অর্থনৈতিক শক্তি না থাকায় নিজেদের ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়ানোর মাশুল দিতে হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিসিসিআই মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ক্রিকেটের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ তাদের নীতি ও আত্মসম্মানের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিলেও প্রশাসনিক ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের দাবিকে আমল দেয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াই বিশ্বকাপের সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও যারা বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, আজ তারা মাঠের বাইরের রাজনীতির শিকার হয়ে আসর থেকে ছিটকে গেল। এই ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটে ‘ন্যায্যতা’ ও ‘ক্ষমতার প্রভাব’ নিয়ে এক গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।