bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আসন ভাগাভাগিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি, ঐক্যের পথ এখনও খোলা: জামায়াত

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক |

নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তোলা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন বণ্টন বা রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকে অসম্মান করা হয়নি বা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি; বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সময় সংবাদকে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আসন বণ্টনের ভিত্তি ছিল জরিপ

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে লিয়াজোঁ কমিটি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৮ থেকে ১০টি জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আসন বণ্টন ছিল একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল—এখানে কাউকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।”

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে স্পষ্টীকরণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ এবং জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সাক্ষাৎ ছিল নিছক সৌজন্যমূলক। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাতেই জামায়াত নেতারা দেখা করেছিলেন। সেখানে জাতীয় সরকার বা আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং বেগম জিয়া যে ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা বজায় রাখার বিষয়ে কথা হয়েছে।

শরিয়া আইন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

জামায়াতের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন চালুর অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমিরে জামায়াত স্পষ্টভাবে বলেছেন—বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই।”

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না; বরং সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত আটটি দলের একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট আহ্বায়ক না রেখে সবাই পালাক্রমে সভাপতিত্ব করেছেন, যা একটি উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়।

বৈঠকে অনুপস্থিতি ও দুঃখ প্রকাশ

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও বিস্মৃতির কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এর জন্য জামায়াত ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং একে ‘অবজ্ঞা’ হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছে।

ঐক্যের পথ এখনও খোলা

ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও জামায়াত আশাবাদী। অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনও বাকি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকে।”

তিনি জানান, জামায়াত ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছে এবং এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৬ বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।