bogra times cover image-1
ঢাকাMonday , 16 February 2026

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে একপেশে জয়

Link Copied!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল ভারত-পাকিস্তান লড়াই। ধুন্ধুমার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে ম্যাচটি হয়ে ওঠে একপেশে। পুরো ম্যাচজুড়েই পাকিস্তানকে কোনো সুযোগ দেয়নি ভারত।

কলম্বোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করেছে ভারত। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায়। জবাবে পাকিস্তানের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১১৪ রানে, ১৮ ওভারেই।

পাকিস্তানের রেকর্ড স্পিন আক্রমণ

এই ম্যাচে পাকিস্তান ছয়জন স্পিনার ব্যবহার করে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ স্পিনার ব্যবহারের নজির।

ইশান কিষানের ঝড়ো ব্যাটিং

ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরুতেই ধাক্কা খায় অভিষেক শর্মার উইকেট হারিয়ে। অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা এই ওপেনার মাত্র তিন বল খেলে আউট হন।

তার বিদায়ের পর আক্রমণের দায়িত্ব নেন ইশান কিষান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৫২ রান। তিলক ভার্মার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৩০ বলে আসে ৫০ রানের জুটি।

ইশান মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। সপ্তম ওভারে আবরার আহমেদকে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ ভেঙে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নবম ওভারে সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হন ইশান। ৩ ছক্কা ও ১০ চারে ৪০ বলে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। ইশান ও তিলকের জুটিতে আসে ৪৬ বলে ৮৭ রান।

শেষ দিকে দ্রুত রান

ইশানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিলকের সঙ্গে তিনি ইনিংস এগিয়ে নেন। তবে দলীয় ১২৬ রানে সাইম আইয়ুব পরপর দুই বলে তিলক ও হার্দিক পান্ডিয়াকে আউট করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন।

পরে সূর্যকুমার যাদব ২৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন। শেষ দিকে শিভাম দুবে ১৭ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। শেষ ওভার থেকে আসে ১৬ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে থামে ভারতের ইনিংস।

পাকিস্তানের হয়ে সাইম আইয়ুব নেন সর্বোচ্চ তিন উইকেট। সালমান আঘা, শাহিন আফ্রিদি ও উসমান তারিক নেন একটি করে উইকেট।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় দলটি। ওপেনার শাহিবজাদা রানের খাতাই খুলতে পারেননি। সাইম আইয়ুব করেন ৬ রান, অধিনায়ক সালমান আঘা করেন মাত্র ৪ রান।

দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিয়েও ব্যর্থ হন সমালোচিত বাবর আজম। সাত বলে মাত্র ৫ রান করে তিনিও সাজঘরে ফেরেন। কিছুটা লড়াই গড়েন উসমান খান—৩৪ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন তিনি। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৯ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেন।

ভারতের দাপুটে বোলিং

বল হাতে ভারতের প্রায় সবাই অবদান রাখেন। হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রিত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী দুটি করে উইকেট নেন। কুলদীপ যাদব ও তিলক ভার্মা নেন একটি করে উইকেট। একমাত্র রিঙ্কু সিং উইকেটশূন্য থাকেন।

এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্ব থেকেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলে ভারত। অন্যদিকে, বড় ব্যবধানের এই হারের পর সুপার এইটে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেল পাকিস্তানের জন্য।

error: Content is protected !!