bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১৬ মার্চ ২০২৬

ডিমলায় জমে উঠেছে ঈদের বাজার, ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে

জামান মৃধা, ডিমলা (নীলফামারী)ঃ
মার্চ ১৬, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। বাহারি পোশাক, প্রসাধনী, অলংকার, জুতা-স্যান্ডেলসহ নানা পণ্যের কেনাবেচায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে শুরু করে রাত গভীর পর্যন্ত সরগরম থাকছে বাজারগুলো।

উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকার ছোট-বড় মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। সন্ধ্যার পর মার্কেট এলাকায় মানুষের ভিড় আরও বাড়ে। পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ বছর দেশীয় তৈরি পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। পাঞ্জাবি, শার্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শোরুমেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উপজেলা সদরের আলম প্লাজা, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, তিস্তা বাজার, কেন্দ্রীয় মসজিদ সুপার মার্কেট, শুভেচ্ছা শপিং সেন্টার, দত্ত মার্কেট, সিয়াম গার্মেন্টস ও সেভেন স্টার শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়পট্টি, জুতাপট্টি ও স্বর্ণপট্টিতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাবেচা। ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখছেন এবং দর কষাকষি করে কেনাকাটা করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক পোশাক ও গার্মেন্টসের দোকান রয়েছে। ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা স্কুলশিক্ষিকা কল্পনা আক্তার বলেন, “নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারলেই আমাদের আনন্দ পূর্ণতা পায়। এ বছর পোশাকের দাম সহনীয় মনে হয়েছে।”

আরেক ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বাজারে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম মোটামুটি ঠিক আছে। সাধ্যের মধ্যে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ নিজের জন্য নতুন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও পাঞ্জাবি কিনেছি। এক থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই বেশ ভালো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।”

অপর ক্রেতা নুরজাহান বলেন, “অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিদেশি পোশাকের চাহিদা কম। দেশীয় পোশাকের মান ভালো হওয়ায় অনেকেই এখন সেগুলো কিনছেন।”

কলেজপড়ুয়া ইয়াসমিন আক্তার জানায়, সে তার মায়ের সঙ্গে ঈদের বাজারে এসেছে। দেড় হাজার টাকার মধ্যে নতুন পোশাক কিনে সে বেশ খুশি।

গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজারের ময়না ক্লথ স্টোরের মালিক শাহ আলম বলেন, “১৫ রোজার পর থেকেই আমাদের দোকানে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো হচ্ছে।”

ময়নামতি সু স্টোরের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, “মাসের শুরুতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাওয়ায় মার্চের শুরু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। নতুন ডিজাইনের স্যান্ডেল ও জুতা দোকানে তুলেছি। আশা করছি, ঈদের আগ পর্যন্ত বেচাকেনা ভালোই চলবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভেজালরোধ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজার, বাস টার্মিনাল ও মার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাইসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও পুলিশ নজরদারি করছে।