bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, শিশু রোগী বেশি

কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শয্যা সংকটে মেঝেতে শুয়েও চিকিৎসা নিতে বাধ্য রোগীরা


ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১১ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।

এদিকে রোগীর চাপ বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ, মহিলা ও প্রসূতি ওয়ার্ডের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ৬ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। কিন্তু ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে শয্যার অভাবে অনেকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাড়ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন ১০১ জন। দৈনিক ভিত্তিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল—

  • ১ এপ্রিল: ৭২ জন ভর্তির মধ্যে ১৯ জন ডায়রিয়া রোগী

  • ২ এপ্রিল: ৬৭ জনের মধ্যে ১৪ জন

  • ৩ এপ্রিল: ৭৫ জনের মধ্যে ১৫ জন

  • ৪ এপ্রিল: ৫৩ জনের মধ্যে ১৫ জন

  • ৫ এপ্রিল: ৭৮ জনের মধ্যে ১৩ জন

  • ৬ এপ্রিল: ৭২ জনের মধ্যে ১৫ জন

  • ৭ এপ্রিল: ৫৫ জনের মধ্যে ১০ জন (শিশু)

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলার গ্রামগুলোতেও ব্যাপক হারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রামীণ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। উপজেলার মহদিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোকছেদ আলী বলেন, ‘প্রায় ঘরে ঘরেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।’

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বেডের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হামিদুপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ৮ বছরের শিশু জোয়াইরিয়া পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও বমি নিয়ে সকাল ৮টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মা আনিছা বেগম জানান, ‘শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কষ্ট হলেও ডাক্তার ও নার্সদের সেবায় সন্তুষ্ট।’

একই চিত্র শিবনগর ইউনিয়নের চককবীর গ্রামের দেড় বছরের শিশু টুম্পা মনির। তার বাবা দ্বীজেন্দ্রনাথ জানান, ‘বুধবার মেয়ের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হলে হাসপাতালে আনি। বেড না থাকায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা চলছে। এখন মেয়ে অনেকটাই সুস্থ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরব।’

পৌর এলাকার কানাহার গ্রামের সাইফুল ইসলামের আড়াই বছরের মেয়ে সোনাইরাও বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত। বাড়িতে স্যালাইন খাওয়ানোর পরও না ভালো হওয়ায় বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেড না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। এখন প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, ‘আবহাওয়া জনিত কারণে শিশুরা পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে দু-একদিনের মধ্যেই সুস্থ করা যাচ্ছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছি। আমাদের হাসপাতাল ৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বাড়তি রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা না থাকায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীরাও দু-একদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও স্বল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে রোগীদের খাবার ও আইভি স্যালাইনের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।