bogra times
ঢাকাশনিবার , ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

নওগাঁয় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বাড়ল ৪ টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধি:
জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নওগাঁ প্রতিনিধি: ভরা মৌসুমে যেখানে চালের দাম কমার কথা, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত নওগাঁয়। আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হওয়ার মাত্র মাসখানেকের মাথায় নওগাঁর বাজারে চালের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জাতভেদে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র

পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মধ্যবিত্তের পছন্দের সরু চালের দামেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।

  • জিরাশাইল চাল: পাইকারি বাজারে কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৭৪-৭৬ টাকায় ঠেকেছে।

  • কাটারি চাল: খুচরা বাজারে মানভেদে কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • মোটা চাল: তবে নিম্নবিত্তের স্বস্তির জায়গা মোটা চালের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে, যা কেজিপ্রতি ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজারে চাল কিনতে আসা আজগর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরু চালের দাম যে হারে বাড়ছে তা হতাশাজনক। আমাদের আয় বাড়ছে না, কেবল জিনিসের দাম বাড়ছে। এটি স্পষ্টতই সিন্ডিকেটের কারসাজি।”

পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের বিক্রেতা উত্তম সরকার জানান, দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতাদের হাত নেই। পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তায় দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চালকল মালিকদের বক্তব্য

চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার। তিনি বলেন, “বর্তমানে ইরি-বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পুরাতন ধানের সরবরাহ কমে আসায় পাইকারি বাজারে ধানের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চালের ওপর।”

তবে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে চালের বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।