bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

বগুড়ার ধুনুটে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার দুই

বার্তা বিভাগ
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ  বগুড়া জেলায় অস্ত্র ও মাদক চক্রের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পোদ্দার বাহিনীর প্রধান ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ফিরোজ পোদ্দার (শাকপালা এলাকার জামাল পোদ্দারের ছেলে) এবং তার সহযোগী রায়হান আলী রানা (শাহজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওমরদিঘী গ্রামের ইজার উদ্দিনের ছেলে, বয়স ৪০)।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য

গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় (বগুড়া সদর, শাহজাহানপুর ও ধুনট) অন্তত পাঁচটি স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন বগুড়া সেনানিবাসের ৪০ বীর এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ। তার সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদসহ একটি দল।

প্রথমে বগুড়া শহরের শাকপালা এলাকা থেকে ফিরোজ পোদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাজাহানপুর উপজেলার ওমরদিঘী এলাকা থেকে রায়হান আলী রানাকে আটক করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয়:

  • ১টি ৯ মিলিমিটারের ব্রিটিশ বুলডগ রিভলভার
  • ৫টি দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি/ধারালো অস্ত্রসহ)
  • বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অস্ত্র বেচাকেনা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ফিরোজ পোদ্দার তার বাহিনী নিয়ে ওই নির্মাণাধীন বাড়িটিকে গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত। সেখান থেকে অপহরণ, অস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, “ফিরোজ পোদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদকসহ প্রায় আটটি মামলা চলমান রয়েছে। তারা পেশাদার অপরাধী এবং দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, মাদক ও গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এলাকায় অস্ত্র ও মাদকের গোপন মজুদের ঘটনায় বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। সেনাবাহিনীর এমন তৎপরতা জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।