bogra times
ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ত্রুটিতে বন্ধ

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | দিনাজপুর দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও পুরোপুরি উৎপাদনহীন হয়ে পড়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে কেন্দ্রটির সর্বশেষ সচল ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনটি ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক:

  • ১নং ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): গত ১৪ জানুয়ারি চালু হলেও মাত্র ৪ দিনের মাথায় রোববার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে এটি বন্ধ হয়ে যায়।

  • ২নং ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে এটি অচল।

  • ৩নং ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট): যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, রোববার সকালে ১নং ইউনিটের বয়লারের টিউব পুরোপুরি ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারের তাপমাত্রা প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।

প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান:

“১নং ইউনিটটি বেশ পুরনো। সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হলেও ইতোমধ্যে এর বয়স ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। এটি আবার কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এবার বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।”

কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্যে। তিনি জানান:

  • ৩নং ইউনিট: হারবিন ইন্টারন্যাশনাল এই ইউনিটের মেরামতে কাজ করছে। চীন থেকে যন্ত্রাংশ এলে আগামী মার্চ নাগাদ এটি চালু হতে পারে।

  • ২নং ইউনিট: এই ইউনিটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছে।

বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি প্রধান উৎস। তিনটি ইউনিটই একসাথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।