bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বন্ধ হতে পারে ২৬০ পাটকল: কাঁচাপাট সংকটে মিল

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

কাঁচাপাটের তীব্র সংকট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম মজুতদারির কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে দেশের প্রায় ২৬০টি পাটকল। উদ্ভূত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব মিল বন্ধ করে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।

গতকাল সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে এ সংক্রান্ত একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে সংগঠন দুটি।

সংকটের মূলে মজুতদার ও রপ্তানি নীতি

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে মিলগুলোতে কাঁচাপাটের হাহাকার দেখা দিয়েছে। শর্তসাপেক্ষে কাঁচাপাট রপ্তানির সুযোগ থাকায় বাজারে পাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এই সুযোগে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ পাট মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে মিলগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

‘লোক দেখানো’ অভিযান ও অকার্যকর পদক্ষেপ

সংকট নিরসনে গত ১৩ ও ২১ জানুয়ারি পাট অধিদপ্তরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় মজুতদারদের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত ছিল, ভারতে রপ্তানির জন্য মজুত রাখা পাট নগদ মূল্যে স্থানীয় মিলগুলোর কাছে বিক্রি করা হবে।

তবে বিজেএসএ-এর চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব পাট এখন মজুতদারদের দখলে। সরকারকে জানানোর পর কিছু লোক দেখানো (ক্যাম্পেইনমূলক) পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ফল আসেনি। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পাট বাজারে ছাড়ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিল বন্ধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”


শিল্পের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

যদি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে:

  • শ্রমিক ছাঁটাই: কয়েক লাখ পাটকল শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

  • রপ্তানি আয় হ্রাস: পাটজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • অর্ডার বাতিল: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং ক্রেতারা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

দাবি ও প্রত্যাশা

মালিকপক্ষ জানিয়েছে, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা মৌখিকভাবে কাঁচাপাট রপ্তানির অনুমোদন না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়ছে না। তাদের দাবি: ১. সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে গুদামে মজুত থাকা পাট উদ্ধার করতে হবে। ২. যৌক্তিক মূল্যে মিলগুলোর কাছে পাটের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৩. মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।