bogra times cover image-1
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চীনের অত্যাধুনিক ভিটি-৫ ট্যাংকের নতুন বহর

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক  প্রতিবেদক-

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ভিটি-৫ হালকা ট্যাংকের একটি নতুন বহর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডিফেন্স ব্লগের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সরবরাহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ইতোমধ্যে বিদ্যমান ভিটি-৫ রেজিমেন্টকে আরও শক্তিশালী করবে। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪৪টি ভিটি-৫ ট্যাংক সম্বলিত একটি রেজিমেন্ট যুক্ত ছিল। নতুন এই বহর যুক্ত হওয়ায় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য

ভিটি-৫ ট্যাংকগুলো ১০৫ মিমি অত্যাধুনিক কামানে সজ্জিত, যা রাশিয়ার তৈরি টি-৯০-এর মতো শক্তিশালী প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক মোকাবিলায় সক্ষম। ট্যাংক-বিধ্বংসী অপারেশন এবং সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ট্যাংক বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের নদীমাতৃক ও নরম মাটির ভূপ্রকৃতির জন্য ভিটি-৫ অত্যন্ত কার্যকর। ভারী ট্যাংক যেখানে চলাচলে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়, সেখানে ভিটি-৫ তার হালকা ওজন এবং উচ্চ গতিশীলতার কারণে সহজেই যেকোনো দুর্গম এলাকায় মোতায়েন করা সম্ভব। সংকীর্ণ ব্রিজ অতিক্রম করতেও এটি সক্ষম।

তুলনামূলক সুবিধা

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ভারতের সেনাবাহিনীর টি-৯০ ট্যাংকের তুলনায় ভিটি-৫ গতিশীলতা, সুরক্ষা এবং মারণক্ষমতার দিক থেকে বেশি সুবিধাজনক। যদিও এই ধরনের তুলনামূলক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। টি-৯০ মূলত একটি ভারী মেইন ব্যাটল ট্যাংক, যা ভিন্ন ধরনের অপারেশনাল ভূমিকার জন্য তৈরি। অন্যদিকে ভিটি-৫ মূলত গতিশীলতা এবং মোতায়েনের নমনীয়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত

এই ট্যাংকে রয়েছে ডিজিটাল ব্যাটলফিল্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, থার্মাল ইমেজিং সাইট এবং আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, যা দিন ও রাত উভয় সময়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সহায়তা করে। এই প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

চীন-বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্ক

গত এক দশকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও মিসাইল সিস্টেমের পর ভিটি-৫ ট্যাংকের এই নতুন বহর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতারই প্রতিফলন। পশ্চিমা বা রুশ ভারী ট্যাংকের তুলনায় ভিটি-৫-এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভিটি-৫ হালকা ট্যাংকগুলো মূলত রেকি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং ফায়ার সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই অত্যাধুনিক ট্যাংক বহর যুক্ত হওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।