bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ — আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর সঙ্গে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ড. আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানান, ভারতে খেলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে সুবিচার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমরা এই অবস্থানে দৃঢ়ভাবে অনড়।”

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ

উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা সবাই চাইতাম বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমান বা বায়বীয় বিশ্লেষণ থেকে তৈরি হয়নি, বরং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে।” তিনি বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএলের একটি দল (কলকাতা নাইট রাইডার্স) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে উল্লেখ করেন, যেখানে কট্টরপন্থীদের চাপে ভারতীয় বোর্ড নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ড. নজরুল জোর দিয়ে বলেন, “যে দেশে আমাদের একজন শীর্ষ খেলোয়াড় নিরাপত্তা পাননি, সেখানে পুরো দল পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। সরকারই নির্ধারণ করে তার নাগরিকদের জন্য কোনো দেশে নিরাপত্তা আছে কি না—এটা আইসিসি বা অন্য কারও বিষয় নয়।”

বিসিবির অবস্থান ও দাবি

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এখনও চায় তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত হোক। তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র দাবি—বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়। আমরা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাব।”

বিসিবি সভাপতি আরও স্পষ্ট করেন যে, মুস্তাফিজুর রহমান নিজে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াননি, তার কোনো ইনজুরি ছিল না এবং বিসিবি তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইসিসির প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি

আইসিসি বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই এবং সূচি অপরিবর্তিত থাকবে। এর ফলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে—দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বা অন্য কোনো দলকে (যেমন স্কটল্যান্ড) প্রতিস্থাপন করা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ এখনও আশা করছে আইসিসি শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে। তবে বর্তমান অবস্থায় টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ক্রিকেটের মাঠ ছাড়িয়ে রাজনৈতিক-নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপ নিয়েছে।