bogra times
ঢাকারবিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ৭.৮৩ শতাংশ

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সীমান্ত উত্তেজনা, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার, সুতা আমদানি বন্ধসহ নানা পদক্ষেপের পরও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। বরং গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারত থেকে পণ্য আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি—৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ

‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫’ (অর্থ বিভাগ, ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ৮৯৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। মোট পণ্য আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সেখানে ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধির হার অনেক বেশি।

ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে:

  • সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য (চাল) ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি
  • বাজার অর্থনীতির নিজস্ব চাহিদা
  • বাংলাদেশের শিল্প ও ভোগ্যপণ্য খাতের জন্য অপরিহার্য কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ

রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বাণিজ্য অটুট

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর:

  • ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে (৯ এপ্রিল ২০২৫)
  • বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে সুইং সুতা আমদানি বন্ধ করে (১৫ এপ্রিল ২০২৫)
  • এনবিআর নিউজপ্রিন্ট, গুঁড়া দুধ, সাইকেল পার্টস, সিরামিক, টাইলসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক ওঠে

কিন্তু এসব পদক্ষেপ ও প্রচারণা সত্ত্বেও ভারত থেকে আমদানি কমেনি, বরং বেড়েছে।

প্রধান আমদানি উৎসে অবস্থান

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য আমদানির অংশ:

  • চীন – ৩০.০২% (সর্বোচ্চ)
  • ভারত – ১৪.১৮% (দ্বিতীয়)
  • যুক্তরাষ্ট্র – ৩.৬৭% (তৃতীয়)

চীন থেকে আমদানি বেড়েছে ৭.৭৩ শতাংশ, যা ভারতের তুলনায় সামান্য কম।

অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতামত

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে টেনশন থাকলেও অর্থনৈতিক ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক এখনো অটুট। এ কারণেই আমদানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক টানাপোড়েন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।