bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেয়াদের শেষ দিকে প্রতিরক্ষা চুক্তি চলমান প্রক্রিয়া: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | 

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি সম্পাদনকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পরবর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে মন্তব্য

বর্তমান সরকারের নেওয়া এসব প্রতিরক্ষা চুক্তি পরবর্তী সরকার বজায় রাখবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিল বলেন, “পরবর্তী সরকার এগুলো চালিয়ে যাবে কি না বা ধারাবাহিকভাবে করবে কি না—এমন প্রশ্ন সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর।”

বিমানে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

সাধারণত কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিমানসংস্থার পরিচালনা পর্ষদে থাকেন না। তবে সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমানকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, “দুনিয়ার সব দেশে উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান নেই।”

অগ্রাধিকার বনাম প্রতিরক্ষা ব্যয়

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন। তবে অগ্রাধিকার তালিকার বাইরে গিয়ে বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মনোযোগী হওয়ায় জনমনে ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের হাতে নেওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • চীন: ড্রোন কারখানা তৈরিতে জিটুজি চুক্তি এবং জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • পাকিস্তান: জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • ইউরোপ: ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • অন্যান্য: দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকদের মতে, মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের মূল ম্যান্ডেটের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।