bogra times
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাহাব আল-আরদ সিরিজ নিয়ে বিতর্ক: গাজার ট্র্যাজেডি নিয়ে বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পবিত্র রমজান উপলক্ষে মিশর নির্মাণ করেছে বিশেষ টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘সাহাব আল-আরদ’। তবে প্রমোশনাল মুক্তি পেতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে সিরিজটি। দর্শক ও নেটিজেনরা এর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে গাজার ট্র্যাজেডি ও মানবিক সংকটকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন।

সিরিজটিতে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা ও মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, রমজান মাসকে আরব টিভি জগতের সবচেয়ে লাভজনক সময় হিসেবে ব্যবহার করে গাজাবাসীর যন্ত্রণাকে বিনোদনের পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে এক ফিলিস্তিনি নাগরিক লিখেছেন, “আমরা তাদের মরতে দিলাম, অবরুদ্ধ রাখলাম; এখন তাদের বীরত্ব নিয়ে টিভি শো বানাচ্ছি।”

নেটিজেনরা বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে এই ট্র্যাজেডিকে নাটকীয় করে উপস্থাপন একটি ‘নৈতিক অপরাধ’। তাদের অভিযোগ, “ট্র্যাজেডি নিয়ে ব্যবসা চলছে! গাজা কোনো কাল্পনিক চিত্রনাট্য নয়। ভিউ বাড়ানোর জন্য মানুষের রক্তকে প্রচারণার সামগ্রী বানানো শিল্পসুলভ কাজ নয়।” অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সিরিজ নির্মাণে ব্যয়িত কোটি কোটি টাকা সরাসরি গাজাবাসীর সাহায্যে বরাদ্দ করা যেত না কেন?

এছাড়া সিরিজে অভিনয় করা তারকাদের বিরুদ্ধেও ‘ভণ্ডামি’র অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, গত দুই বছর গাজাবাসীর পক্ষে কথা বলার সময় তারা নীরব ছিলেন, এখন তাদের দুর্দশাকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা চলছে।

১৫ পর্বের এই সিরিজে গাজায় কর্মরত এক মিসরীয় চিকিৎসক দলের মানবিক কার্যক্রমের গল্প বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় মিসরীয় অভিনেত্রী মেন্না শালাবি এবং ফিলিস্তিনি এক নাগরিকের চরিত্রে জর্ডানীয় অভিনেতা ইয়াদ নাসার।

তবে একটি অংশের মত হলো, এই সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকরা ফিলিস্তিনিদের বাস্তব দুর্ভোগ নতুনভাবে অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ‘ট্র্যাজেডির বাণিজ্যিকীকরণ’ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রমজানের টিভি বিনোদন জগতে নতুন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে।