bogra times Add
ঢাকাশুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানে চীনের শক্তিশালী ‘YLC-8B’ রাডার, চিন্তায় ইসরায়েল ও আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

তেহরান/বেইজিং: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান চীনের তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘YLC-8B’ অ্যান্টি-স্টিলথ রাডার হাতে পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার মোতায়েনের ফলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ (রাডারে ধরা না পড়া) যুদ্ধবিমানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

স্টিলথ শিকারি ‘YLC-8B’

চীনের নানজিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি (CETC) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই রাডারটিকে বলা হয় ‘স্টিলথ বিমানের যম’। এটি মূলত আল্ট্রা-হাই ফ্রিকোয়েন্সি (UHF) ব্যান্ডে কাজ করে। সাধারণত মার্কিন F-35 লাইটনিং বা B-2 স্পিরিট বোমারু বিমানগুলো যে বিশেষ আবরণে আবৃত থাকে, তা উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির রাডারকে ফাঁকি দিতে পারলেও UHF তরঙ্গের কাছে ধরা পড়ে যায়।

যে কারণে চিন্তিত পেন্টাগন

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডারের সক্ষমতা আকাশযুদ্ধের সমীকরণ বদলে দেওয়ার মতো:

  • বিশাল নজরদারি: এই রাডার প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে সাধারণ যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম।

  • আগেভাগেই সতর্কতা: অত্যন্ত দ্রুতগামী স্টিলথ ফাইটারগুলোকেও এটি ৩৫০ কিলোমিটার দূর থেকেই ট্র্যাক করতে পারে। ফলে শত্রু বিমান লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছানোর অনেক আগেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।

  • একযোগে বহুমুখী লক্ষ্যবস্তু: এটি একই সাথে শত শত ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং যুদ্ধবিমান ট্র্যাক করতে পারে, যা যেকোনো বড় আকারের বিমান হামলা মোকাবিলায় ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব

সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পর তেহরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাডারে ধরা পড়ে না এমন বিমানগুলোর হানা রুখতেই চীনের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বেছে নিয়েছে তারা।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কেবল প্রযুক্তি সরবরাহ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমানোর একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে ইরানের ‘বাভার-৩৭৩’ এবং ‘এস-৩০০’ মিসাইল সিস্টেমগুলো এখন অনেক বেশি নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারবে।

ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রতিক্রিয়া

যদিও মার্কিন পেন্টাগন বা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এই রাডার মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো হবু বিমান অভিযানের ঝুঁকি ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। এখন থেকে ‘অদৃশ্য’ থেকে ইরানে হামলা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, YLC-8B রাডার মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে এক নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে যাচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তির লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে গেল তেহরান।