bogra times cover image-1
ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত: শতাধিক নিহত, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ১:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তেহরান, ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ইরানের বিভিন্ন শহরে শনিবার রাতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনপীড়ন সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আছেন। গত তিন দিনে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিবিসির খবরে জানা গেছে, তবে এতে বিক্ষোভ দমাতে পারেনি সরকার।

দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশের প্রতিটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শতাধিক শহরে বিক্ষোভকারীরা লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, মোল্লাতন্ত্রের বিরোধিতা এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতার অবসান দাবি করে মিছিল করছেন। খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘গোলমালকারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের ঘিশা ও পুনাক চত্বরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে থালা-বাসন পিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যখন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর নজর রাখছে। মাশহাদের ভাকিল আবেদ বুলভার্ডে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পূর্ব তেহরানের হেরাভি জেলায় মিছিলকারীরা মোল্লাতন্ত্রের বিলুপ্তি দাবি করেছেন।

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিন বছর আগের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের তুলনায় এবার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায় হিসেবে স্টারলিংক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জন্য দেশের ভেতর থেকে সরাসরি খবর সংগ্রহ করা কঠিন হলেও ভিডিও, ফোন কল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য বেরিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন, ইরান স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য দিতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে সামরিক হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই। এদিকে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে পোস্ট করে বলেছেন, তাদের সাহস ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রেসিডেন্টের নজরে এসেছে।

ইরানের এই চলমান আন্দোলনকে অনেক বিশ্লেষক ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। বিক্ষোভের গতি ও ছড়িয়ে পড়ার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এটি স্বল্পমেয়াদে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

(সূত্র: বিবিসি, প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা, যাচাইকৃত ভিডিও ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম)