bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এই বাংলাদেশ—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার — জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তরুণ সমাজকে সমাজের ককপিটে বসিয়ে দিতে চাই। আমরা আর জুলাই চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনোদিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই প্রসঙ্গ ও অতীত ভাবনা

ভাষণের শুরুতে জামায়াত আমির বলেন, “আজ আমি এখানে যাদের কারণে কথা বলছি, সেই জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।”

তিনি জুলাই আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে।”

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই তরুণরা পরিশ্রমী, সাহসী, মেধাবী। এই তরুণরা পরিবর্তনকে ভালোবাসে। এই তরুণরা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই।”

নির্বাচনী অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা

জামায়াত আমির তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছি যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য পাঁচটি বিষয়ে হ্যাঁ এবং পাঁচটি বিষয়ে না বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যাঁ বলতে বলেছি।”

তিনি তিনটি ক্ষেত্রে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন:
১. শিক্ষা সংস্কার: নৈতিকতা ভিত্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা
২. বিচার বিভাগীয় সংস্কার: সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের বিচারকের আসনে বসানো
৩. অর্থনৈতিক সংস্কার: ব্যাংকিং খাত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অঙ্গীকার

নারী সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে।”

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশ—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না।”

প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “প্রবাসীদের জন্য ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে—যারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সেবা ও সমস্যার বিষয়ে দূতাবাস বা হাইকমিশনের সাথে সরাসরি সমন্বয় করবে।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করবো। আমরা অন্যের ভৌগলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবো।”

শেষ আবেদন

ভাষণের শেষে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশবাসী তাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করবেন।