bogra times cover image-1
ঢাকাসোমবার , ৩ আগস্ট ২০২৬

পাঁচ গ্রামের চলাচলের দুর্ভোগ: শেরপুরে সড়ক পাকাকরণের দাবিতে মানবন্ধন ও স্মারকলিপি

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
আগস্ট ৩, ২০২৬ ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর (বগুড়া)

দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পাঁচটি গ্রামের ভুক্তভোগী শত শত অধিবাসী। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের বাগমারা, ঘোলাগাড়ি, রাজবাড়ী, হাতিগাড়া ও খোট্টাপাড়া—এই পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধনে নারী-পুরুষের পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বগুড়া জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ভোগান্তির চিত্র ও এলাকাবাসীর আকুতি মানববন্ধনে বক্তারা জানান, অবহেলিত এই পাঁচ গ্রামে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের প্রধান সড়কটি কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে পড়েন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীরা, যাদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

রাজবাড়ী গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম ও আবদুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার বেহাল দশায় গ্রামে কোনো যানবাহন ঢুকতে চায় না। কষ্ট করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। সরকারের নানামুখী উন্নয়নের ছোঁয়া আমাদের এই পাঁচ গ্রামে কবে পৌঁছাবে?”

ধারাবাহিক আশ্বাসে ক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সিপিবি শেরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, “শ্রমজীবী ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এর আগে ২০১২, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও প্রশাসনের কাছে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবার বাধ্য হয়েই আমরা রাজপথে নেমেছি।”

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি আমিনুল ফরিদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি স্মারকলিপি গ্রহণের পর শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, অধিবাসীদের দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

ইউএনও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আসন্ন এক সপ্তাহের মধ্যে ওই সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও কাদাযুক্ত অংশে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে ‘বগুড়া উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এনে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”