bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্থানে শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত বেড়ে ৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক |

পাকিস্তানের করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স ‘গুল প্লাজা’য় গত শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কেটের একটি দোকান থেকেই ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এক দোকানেই ৩০ প্রাণ

ডিআইজি আসাদ রাজা জানান, প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচতে দোকানের ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দিয়েছিলেন মালিক ও কর্মচারীরা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় এবং তারা ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। উদ্ধারকৃত ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি

গত ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) শপিং কমপ্লেক্সটির বেসমেন্টে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা এই আগুন দ্রুত ৫ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ১ হাজার ২০০-এর বেশি দোকান সমৃদ্ধ এই কমপ্লেক্সটির অধিকাংশ দোকানই ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের বিশাল বহর প্রায় ২৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। জানা গেছে:

  • বিশাল এই মার্কেটে ২৬টি প্রবেশপথ থাকলেও মাত্র ২টি খোলা রাখা হতো। আগুন লাগার সময় বাকি ২৪টি গেট বন্ধ থাকায় মানুষ বের হতে পারেনি।

  • মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলো অকেজো ছিল।

  • ১৯৮০ সালে নির্মিত এই ভবনটিতে জরুরি নির্গমনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।

শোক ও তদন্ত

করাচির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ৪০ জনের সন্ধানে এখনো তল্লাশি ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভবন কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।