bogra times cover image-1
ঢাকাশনিবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

সরিষা ফুলে হলুদের সমারোহ: মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক,| ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদ চাদরে ঢাকা। আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ করছেন তারা, যা স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

মৌচাষিদের ব্যস্ততা ও সম্ভাবনা

উপজেলার বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৌচাষিরা। দিনাজপুর থেকে আসা মৌচাষি সোহেল রানা জানান, শুরুতে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে মধু উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও বর্তমানে রোদ ওঠায় উৎপাদন ভালো হচ্ছে। প্রতিটি মৌবাক্স থেকে গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যাচ্ছে, যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিপণন নিয়ে শঙ্কা

তবে মধু উৎপাদন বাড়লেও বিপণন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চাষিরা। হাবিবুল্লাহ মিজান নামে এক মৌচাষি বলেন, “অনেক টাকা বিনিয়োগ করে আমরা মধু উৎপাদন করি, কিন্তু পাইকাররা ন্যায্য দাম দিতে চায় না। সরকারি উদ্যোগে যদি মধু সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যবস্থা থাকত, তবে আমাদের মতো খামারিরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচত।”

কৃষিতে ‘পরাগায়ন’ বিপ্লব

মৌচাষ শুধু মধুই দিচ্ছে না, সরিষার ফলন বৃদ্ধিতেও রাখছে বড় ভূমিকা। স্থানীয় কৃষক রমিজ মন্ডল জানান, সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স বসানোর ফলে পরাগায়ন ভালো হয়, এতে ফলন প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে জমিতে পোকামাকড়ের উপদ্রবও কমে যায়।

ক্রেতাদের ভিড়

প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাঁটি মধুর খোঁজে সরিষা ক্ষেতের পাশেই ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা। মৌসুমি ও আরাফাত নামে দুই ক্রেতা জানান, বাজার থেকে ভেজাল মধু কেনার ভয়ে তারা সরাসরি মাঠ থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহ করছেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জসিম উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন:

“তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আমরা কৃষকদের মাঝে মৌবাক্স সরবরাহ করেছি। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৪০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে এবং মৌচাষিদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”