bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জে জনবল সংকটে অচল ৩১ শয্যার হাসপাতাল

নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নে অবস্থিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে নির্মিত এ হাসপাতালটি আজও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। ফলে বাগবাটি ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে গত সোমবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অনেক রোগীকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও সীমিত জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী আছেন হাতে গোনা কয়েকজন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৩ জন চিকিৎসক, প্রায় ২০ জন নার্স, ১৩ জন অফিস সহায়ক কর্মচারী এবং ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন নার্স ও ৪ জন উপসহায়ক কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো)। এ ছাড়া একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও তাকেই স্টোরকিপারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত অনেক পদই অনুমোদন হয়নি। মাত্র চারজন স্যাকমো দিয়ে ২৪ ঘণ্টা রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করা অত্যন্ত কঠিন।’

রোগী আছে, সেবা নেই

জনবল সংকটের মধ্যেও গত বছরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রায় ২৬ হাজার ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অথচ হাসপাতালে থাকা এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিতে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যা বললেন

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাগবাটি হাসপাতালে প্রশাসনিক অনুমোদন আছে, কিন্তু জনবল সৃষ্টি নেই। আমি এর আগে অনেকবার চিঠি দিয়েছি। সব কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিদপ্তরে চালু হবে বলে আশা করি।’

সিভিল সার্জনের বক্তব্য

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, ‘সংকট মোকাবেলায় দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ও জ্বালানি মন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছে।’

স্থানীয়দের দাবি

দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল নিয়োগ এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • হাসপাতালের শয্যা: ৩১টি

  • নির্মাণকাল: ২০১৭ সাল

  • বর্তমান জনবল: ৪ স্যাকমো, ২ নার্স, ১ ফার্মাসিস্ট

  • প্রয়োজনীয় জনবল: ১৩ চিকিৎসক, ২০ নার্স, ১৩ অফিস সহায়ক, ৫ পরিচ্ছন্নতা কর্মী

  • অকেজো সরঞ্জাম: এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স (চালক নেই)

গত বছর বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ২৬ হাজার ৬০০ রোগী। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় এখন এলাকার সাধারণ মানুষ।