bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬

খানপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী আমেজ, আলোচনায় এগিয়ে আশরাফুদ্দৌলা মামুন

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
মার্চ ৩, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর, বগুড়া প্রতিনিধি:

করতোয়া আর বাঙ্গালি নদীর স্রোত পেরিয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ৪ নং খানপুর ইউনিয়নে এখন বইছে ”নির্বাচনী স্রোত”। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে মাঠ গরম হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় চায়ের দোকান থেকে হাটবাজার সবখানেই চলছে আলোচনা।

এই আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছেন শেরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন। ১৯৮৪ সালে খানপুর ইউনিয়নের শৈল্ল্যাপাড়া গ্রামে তার জন্ম। তার পিতা আলহাজ্জ মোঃ মতিয়ার রহমান দুইবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং মাতা হাজী আফরুজা বেগম একজন গৃহিণী। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও জনসেবার একটি পটভূমি তার বেড়ে ওঠায় প্রভাব রেখেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

ছাত্রজীবন শুরু শেরপুর ডিজে হাই স্কুলে। ২০০০ সালে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এরপর ধাপে ধাপে ২০১১ সালে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০১২ সালে শেরপুর উপজেলা যুবদলের সেক্রেটারি, ২০১৭ সালে বগুড়া জেলা যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০২২ সালে শেরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক পথচলায় তাকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার নামে মোট ৭টি মামলা রয়েছে এবং ৩ বার কারাবরণ করেছেন বলে জানা যায়। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ২০১৮ সালে কুসুম্বি ইউনিয়নের গোসাইবাড়ী বাজার এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণাকালে গ্রেপ্তার হন। সর্বশেষ ২০২২ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

২৬ আগস্ট ২০২২ তারিখে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবাড়ি ইউনিয়নে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করে ফেরার পথে বেতখোর বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালায়।

রাজনীতির বাইরেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। ২০১৯ সালে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে খানপুর ইউপির শৈল্ল্যাপাড়া মাদ্রাসায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। নিয়মিতভাবে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এলাকার যুবকদের খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও চিকিৎসায় গোপনে সহায়তা করা তার ব্যক্তিগত পছন্দ বলেও ঘনিষ্ঠরা জানান। এছাড়া বিগত সময়ে মামলা ও হয়রানির শিকার যুবদলের নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং মৃত্যুবরণকারী সদস্যদের পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে খানপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নতুন করে সাজানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নির্বাচনী আলোচনায় আশরাফুদ্দৌলা মামুন যে এগিয়ে আছেন, সেটি এখন স্পষ্ট।