bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

চীন-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি বিপজ্জনক : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘ আট বছর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। একদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। আটলান্টিকের দুই পাড়ের দুই মিত্র দেশের মধ্যে এই বৈপরীত্য নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বেইজিংয়ে স্টারমার: কী পেল যুক্তরাজ্য?

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন কিয়ার স্টারমার। এই সফরের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে:

  • ভিসা সুবিধা: ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ১৫ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা।

  • শুল্ক হ্রাস: স্কচ হুইস্কির ওপর আমদানি শুল্ক ১০% থেকে কমিয়ে ৫% এ নামিয়ে আনা।

  • বিশাল বিনিয়োগ: ব্রিটিশ ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে ১,০৯০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই নতুন সম্পর্ককে ‘অধিকতর পরিশীলিত ও শক্তিশালী’ বলে দাবি করেছেন।

ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা

তবে এই বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতাকে ভালো চোখে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, চীনের ওপর এই নির্ভরশীলতা ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে। ট্রাম্প কেবল যুক্তরাজ্যকেই নয়, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-র সাম্প্রতিক বেইজিং সফরেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন।

কানাডার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সুর ছিল আরও কঠোর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেইজিংয়ের সাথে ব্যবসা করার খেসারত হিসেবে কানাডাকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মুখে পড়তে হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান হিসেবে চীনকে বেছে নিয়ে একটি বড় ধরণের ‘কৌশলগত ভুল’ করছে।

পাল্টা যুক্তি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

ওয়াশিংটনের সমালোচনার জবাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। এমনকি তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও আগামী এপ্রিলে বেইজিং সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্টারমার। কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ কড়া ভাষায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘চীনা টেবিলের উচ্ছিষ্ট’ সংগ্রহের জন্য শি জিনপিংয়ের কাছে মাথানত করেছেন।

অর্থনৈতিক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ

সব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে সাংহাইয়ে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সে স্টারমার বলেন:

“বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করা যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মার্কিন মিত্রতা রক্ষা করা এবং অন্যদিকে চীনের বিশাল বাজার ধরার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন লন্ডনের জন্য সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।