bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বগুড়া-৫ : হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৩:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হলেও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্তে গিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান আইনি কার্যক্রম শুরু হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ। নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার পর থেকেই তিনি প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে তার হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার স্ত্রী ৫১২ কোটি টাকার ঋণখেলাপী এবং ছেলে ৪২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছেন, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. দবিবুর রহমান।

রিট আবেদনের পর ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় গোলাম মো. সিরাজ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও পুত্রের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তারা স্বাধীনভাবে তা পরিচালনা করেন। তারা তার ওপর নির্ভরশীল নন, তাই তাদের আর্থিক দায় তার ওপর বর্তায় না। তিনি আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী ও পুত্র কেউই ঋণখেলাপী নন।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় জামায়াতের প্রার্থী দবিবুর রহমান উপস্থিত থাকলেও তখন কোনো আপত্তি বা অভিযোগ তোলেননি। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করলেও তা কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়নি এবং শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, জনগণের আস্থা হারিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, দবিবুর রহমানের নির্বাচনী এজেন্ট ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিম ১১ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীই বরং অপপ্রচার চালাচ্ছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই তাদের প্রার্থী উচ্চ আদালতে গেছেন এবং আদালতের রায় তারা মেনে নেবেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রধান দুই দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।