bogra times
ঢাকারবিবার , ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান শীতল সম্পর্কের মধ্যেই বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও বক্তব্য দেন।

পারস্পরিক নির্ভরতা ও ঐতিহ্যের বন্ধন

প্রণয় ভার্মা তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের যৌথ ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ভিত্তি। বর্তমানে এই সম্পর্ক কেবল সংস্কৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।

জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাইলফলক

দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে হাইকমিশনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন:

  • ডিজেল পাইপলাইন: ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন।

  • বিদ্যুৎ সঞ্চালন: ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

  • শিল্প খাত: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ভারতীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) অবদান।

ভবিষ্যতের রোডম্যাপ ও সংবেদনশীলতা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সন্ধিক্ষণে প্রণয় ভার্মা বলেন, “ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হবে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিচালিত, যা পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, তরুণ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী চালিত এই দুই অর্থনীতি একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি করিডোর নির্মাণের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংহতি শক্তিশালী করার ওপরও তিনি জোর দেন।

সমাপনী বার্তা

বক্তব্যের শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল্য পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ দেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। রাজনৈতিক টানাপড়েনের এই সময়ে তাঁর এই বক্তব্যকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।