bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাতক্ষীরায় হলুদের সুবাসে স্বপ্ন বুনছেন গ্রামবাসী, বাড়ছে কর্মসংস্থান

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক |

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর গ্রাম এখন হলুদের কর্মযজ্ঞে মুখর। সকাল হতেই কেউ কাঁচা হলুদ বাছাই করছেন, কেউ সিদ্ধ করছেন, আবার কেউ মেশিনে পরিষ্কার করে রোদে শুকাচ্ছেন। রান্নার অপরিহার্য এই উপকরণটি এখন এই গ্রামের শত শত মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যস্ত জনপদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি

কিসমত ইলিশপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে একাধিক হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। স্থানীয় প্রায় ২৫ জন ব্যবসায়ীর হাত ধরে এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। কাঁচা হলুদ সংগ্রহের পর তা ধুয়ে ও সিদ্ধ করে রোদে শুকানো হয়। এরপর মেশিনে মাটি ও খোসা ছাড়িয়ে গ্রেডিং বা বাছাইয়ের কাজ শেষে তা বস্তাবন্দি হয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

এক শ্রমিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমরা কাঁচা হলুদ কিনে আনি, এরপর ধুয়ে সিদ্ধ করি। দুইবার মেশিনে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করার পর রোদে শুকিয়ে বাজারে পাঠানোর উপযুক্ত করি।”

কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

এই প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে এলাকার বহু নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি আয়ের একটি বড় উৎস। একজন শ্রমজীবী নারী জানান, প্রতি ঝুড়ি হলুদ সিদ্ধ করে তিনি ২০ টাকা পান। দিনে চার-পাঁচ ঝুড়ি কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই তার সংসার চলে।

লাভের চেয়ে পরিশ্রম বেশি: উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ

হলুদের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়লেও উদ্যোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাদের অভিযোগ, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির দাম বাড়লেও শুকনো হলুদের বাজারমূল্য সেভাবে বাড়ছে না।

একজন স্থানীয় উদ্যোক্তা আক্ষেপ করে বলেন:

“দীর্ঘ পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব সীমিত। এছাড়া আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে গেলে অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়। ফলে প্রকৃত আয় আমাদের হাতে খুব কমই থাকে।”

কৃষি বিভাগের আশ্বাস

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম জানান, হলুদ চাষিদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। তিনি বলেন:

  • প্রণোদনা: প্রান্তিক চাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • কারিগরি সহায়তা: ছত্রাকজনিত পচা রোগসহ হলুদের বিভিন্ন রোগবালাই দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিত সরকারি সহায়তা এবং বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে কলারোয়ার এই হলুদ শিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।