bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

২৯৫টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করছে সরকার

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক |  দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ ৩০ বছর পর ‘জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা’ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ১১৭টির পরিবর্তে ২৯৫টি ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মূল্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত গাইডলাইনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • তালিকার বিস্তার: অত্যাবশ্যক ওষুধের সংখ্যা ১১৭টি থেকে বাড়িয়ে ২৯৫টি করা হয়েছে।

  • ৮০ শতাংশ সুফল: সরকারের দাবি, এই তালিকার মাধ্যমে দেশের ৮০ শতাংশ রোগ ও রোগীর চিকিৎসা সেবার আওতাভুক্ত হবে।

  • মূল্য সমন্বয়: পর্যায়ক্রমে আগামী ৪ বছরের মধ্যে নতুন মূল্য কার্যকর হবে। প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে দাম সমন্বয় বা কমানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

  • ব্যয় হ্রাস: বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই হয় ওষুধের পেছনে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতি বাংলাদেশের ওষুধ খাতকে স্বাবলম্বী করেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে নিয়ন্ত্রিত ওষুধের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ১১৭টিতে নামিয়ে আনা হয়। গত ৩০ বছরে বাজারে ওষুধের সংখ্যা ৩৫০ থেকে বেড়ে প্রায় ১,৫০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে ১,৩০০টিরও বেশি ওষুধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় সেগুলোর দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই তালিকা প্রণয়নে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল এবং উৎপাদক, ওষুধ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

শিল্প ও উৎপাদনের ওপর প্রভাব

ওষুধ শিল্পের স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ডা. সায়েদুর রহমান জানান, উৎপাদনকারীদের ওপর যেন আকস্মিক চাপ না পড়ে, সেজন্য তাদের চার বছর সময় দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে দাম কমিয়ে তারা নির্ধারিত মূল্যে পৌঁছাবেন। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরের বাকি প্রায় ১,১০০ ওষুধও পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে। সরকার আশা করছে, ১৯৮২ সালের সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন সাধারণ মানুষ প্রকৃত স্বাস্থ্য সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।