bogra times cover image-1
ঢাকাবুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Desk প্রতিবেদক

আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। সম্পূরক ব্যয়সহ এসব যুদ্ধবিমান কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি চুক্তির খসড়াও প্রস্তুত করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ উদ্যোগের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিএটিআইসির সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চুক্তি হতে পারে। এ যুদ্ধবিমান কেনার ব্যয় ১০ বছরের বিশেষ থোক বরাদ্দের মাধ্যমে ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের মূল দাম ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লজিস্টিক সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও করসহ প্রতিটি বিমানের কার্যকর ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার।

২০টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১০টি বিমান সরাসরি বিমানবাহিনীর মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। বাকি ১০টি অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হবে।

বিমানের মূল দামের বাইরে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং ভ্যাট, বিমা ও পূর্তকাজের জন্য আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় জে-১০সি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই যুদ্ধবিমান বেছে নেওয়া হয়েছে।

চীনের তৈরি এক ইঞ্জিনের জে-১০সিই সুপারসনিক গতির ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম। প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইউএভি ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কারিগরি সক্ষমতার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, কারিগরি দিক থেকে জে-১০সি বেশ কার্যকর। তবে এত বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।