bogra times cover image-1
ঢাকাবুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬

শেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের অপারেশনে শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের কথিত ‘ছোট অপারেশনের’ পর পাঁচ বছরের এক শিশুর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রস্রাবের সমস্যার কথা বলে শিশুটিকে ওই পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তার যৌনাঙ্গের মাথায় কাটাছেঁড়া করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তীব্র ব্যথা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় প্রস্রাব। পরে শিশুটিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিশুটির নাম ওসমান আলী (৫)। সে শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট সকালে প্রস্রাবের স্থানে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হওয়ায় ওসমানকে শেরপুর শহরের সান্যালপাড়া এলাকার পল্লী চিকিৎসক সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নেওয়া হয়। শিশুটিকে পরীক্ষা করে প্রস্রাবের রাস্তায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ছোট অপারেশন’ করতে হবে বলে জানান সুনীল বিশ্বাস। এ জন্য তিনি ১২ হাজার টাকা দাবি করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য তিনি কিছু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর ছেলের চিকিৎসা শুরু করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির যৌনাঙ্গের মাথায় কাটাছেঁড়া করে ব্যান্ডেজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ১১শেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের অপারেশনে শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন ওষুধ লিখে শিশুটিকে বাড়িতে পাঠানো হয়।

জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চেম্বারের পরিবেশ ও সুনীল বিশ্বাসের কথাবার্তা দেখে তাঁকে বড় চিকিৎসক মনে হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি, তিনি পল্লী চিকিৎসক। আমার ছেলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কেন কাটাছেঁড়া করা হলো, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমার ছেলে অনেক কষ্ট করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার ও দায়ী ব্যক্তির শাস্তি চাই।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির ব্যথা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যায়। রাত আটটার দিকে অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে আবার সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নিয়ে যান। তাঁদের দাবি, শিশুটির অবস্থা দেখে সুনীল বিশ্বাস চিকিৎসার জন্য নেওয়া ১১ হাজার টাকা ফেরত দেন। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে শিশুটিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সুনীল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তবে তিনি কাটা-ছেঁড়া ও সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাও দিয়ে থাকেন। চেম্বারের পরিপাটি পরিবেশ ও ব্যবহারের কারণে অনেকে তাঁকে চিকিৎসক মনে করে সেখানে চিকিৎসা নিতে যান। তাঁদের অভিযোগ, এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনীল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এমন শত শত রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসছি। শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়ে থাকতে পারে। আমি তার বাবাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। এখন আর কী হবে।’

শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, পল্লী চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার করার কোনো অনুমতি নেই। প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার ক্ষেত্রেও তাঁদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেউ কাটা-ছেঁড়া বা এ ধরনের চিকিৎসা করে থাকলে তা আইনবহির্ভূত কাজ।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, এ ধরনের পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। অচিরেই কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।