bogra times cover image-1
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬

ফুটবল মাঠের ঝগড়া থেকে স্কুলছাত্র হত্যা: পালানোর আগেই প্রধান আসামি শাকিল গ্রেপ্তার

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
আগস্ট ৪, ২০২৬ ৭:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 খেলা থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর, রাতেই হত্যা মামলা; ঢাকায় পালানোর প্রস্তুতির সময় পুলিশের হাতে ধরা প্রধান অভিযুক্ত

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে একটি ফুটবল ম্যাচ ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত এক স্কুলছাত্রের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যাওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল শেখ (১৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. শাকিল (২৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শালফা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় শাকিল ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

নিহত জামিল উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া দাহপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফুটবল মাঠে কী ঘটেছিল?

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরুয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, জামিল সরাসরি কোনো পক্ষের হয়ে সংঘর্ষে জড়াননি। বরং ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করতেই তিনি হামলার শিকার হন। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতেই হত্যা মামলা

ঘটনার পর নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম শেরপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ সম্ভাব্য আসামিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান শুরু করে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধান অভিযুক্ত শাকিল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শালফা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রধান অভিযুক্ত শাকিলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন

একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাঠের সামান্য বিরোধ কীভাবে এত দ্রুত প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিল, এবং সংঘর্ষের সময় উপস্থিত অন্যরা কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, হামলায় ব্যবহৃত উপকরণ ও ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনার পূর্ণ পটভূমি আরও স্পষ্ট হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন।