bogra times cover image-1
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬

চোখ-ত্বকের এসব পরিবর্তন কি উচ্চ কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত?

নিউজ ডেস্কঃ-
আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উচ্চ কোলেস্টেরলকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে নিয়মিত পরীক্ষা না করলে অনেকেই বিষয়টি জানতে পারেন না। তবে বিশেষ করে বংশগতভাবে কোলেস্টেরল খুব বেশি থাকলে চোখের চারপাশ বা ত্বকে কিছু চর্বি জমার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া যায়

চোখের পাতার পাশে হলদেটে দাগ
চোখের পাতার চারপাশে হলদেটে ছোট দাগ বা চর্বির মতো জমাট অংশ দেখা যেতে পারে। একে জ্যানথেলাজমা বলা হয়। এটি উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে অন্য ঝুঁকির কারণ থাকলে। তবে শুধু এ ধরনের দাগ দেখেই কোলেস্টেরল বেশি বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

চোখের চারপাশে সাদা বা ধূসর রিং
চোখের মণির চারপাশে সাদা বা ধূসর রিং দেখা গেলে তাকে কর্নিয়াল আর্কাস বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি দেখা দিতে পারে। তবে কম বয়সে এমন রিং দেখা দিলে উচ্চ কোলেস্টেরল বা বংশগত হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার বিষয়টি চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।

ত্বকে হলদেটে গুটি বা চর্বির জমাট
হাত, কনুই, হাঁটু কিংবা চোখের আশপাশে হলদেটে গুটি বা চর্বির মতো জমাট দেখা গেলে সেটি জ্যান্থোমা হতে পারে। বিশেষ করে অল্প বয়সে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বংশগতভাবে কোলেস্টেরল বেশি থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়।

হাত-পায়ের টেন্ডনে অস্বাভাবিক ফোলা
অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে অ্যাকিলিস টেন্ডনসহ কিছু টেন্ডনে চর্বি জমে পুরু হয়ে যেতে পারে। এমন পরিবর্তনও বিশেষ করে বংশগত উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।

সব ত্বকের দাগই কোলেস্টেরলের লক্ষণ নয়

ত্বকে নীলচে বা বেগুনি দাগ, সাধারণ ফুসকুড়ি কিংবা রঙের পরিবর্তনকে সরাসরি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। একইভাবে শরীরে কোনো গুটি বা দাগ দেখা দিলেই কোলেস্টেরল বেড়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকে। তাই শরীরে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। লিপিড প্রোফাইল বা লিপিড প্যানেল পরীক্ষায় মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল, এইচডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়।

কেন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ জরুরি

রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে ধমনির দেয়ালে জমে প্লাক তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই প্লাক ধমনি সরু বা বন্ধ করে দিতে পারে, যা হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

তাই চোখ বা ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর কোলেস্টেরল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।