bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের প্রতি চীনের বার্তা: সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে সবাইকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির তেহরানের কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই অভিযানের নাম দিয়েছে লায়ন্স রোর । ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একটি “প্রতিরোধমূলক ধর্মঘট” (Preemptive Strike) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ধ্বংস করে দেওয়া এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ইরানের তীব্র পাল্টা জবাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিতে শুরু করে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রথম ধাপে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ঢেউ ছুঁড়ে দেয়।

  • ইসরায়েলে সাইরেন: তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে মুহুর্মুহু সাইরেন বেজে ওঠে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় অসংখ্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইডিএফ জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: ইরান শুধু ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে তাই নয়, একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে আঘাত হেনেছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে হুঙ্কার দিয়ে বলেছে, “শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আরও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানে হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”

বিশ্বশক্তির প্রতিক্রিয়া

এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

  • রাশিয়া: ইরানের ওপর এই হামলাকে “দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই সামরিক আগ্রাসনকে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার হুমকি হিসেবে দেখেছে এবং দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও কড়া ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, “ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ছিল শুধু বিষয়টিকে আড়াল করার জন্য। বাস্তবে কেউ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।”

  • চীন: গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।” বেইজিং সব পক্ষকে উত্তেজনা এড়াতে এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।