bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চূড়ান্ত হামলার নির্দেশ দেন, তবে এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এবারের সম্ভাব্য সংঘাত দুই দেশের মধ্যে অতীতের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

অভিযানের লক্ষ্য ও ব্যাপ্তি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কেবল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নয়, বরং দেশটির রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটানা কয়েক সপ্তাহের একটি বড় অভিযানের পরিকল্পনা করছে। গত বছর পরিচালিত ‘মিডনাইট হ্যামার’ ছিল একটি এককালীন বা সীমিত হামলা, কিন্তু এবারের পরিকল্পনাটি অত্যন্ত জটিল এবং বিস্তৃত।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এটি সেখানে আগে থেকে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সাথে যোগ দেবে। এছাড়াও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও কূটনীতি

গত শুক্রবার উত্তর ক্যারোলিনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানো “কঠিন” হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে ভয়ের প্রয়োজন হয়। ভয়ই একমাত্র বিষয় যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।” ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে বিকল্প হবে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক”।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেত্রে সব পথই খোলা রাখা হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাবে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।