bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

কৃমির সংক্রমণ: জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ ৭:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বাস্থ্য ডেস্ক | ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

শরীরে কৃমির সংক্রমণ এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা যা বয়সভেদে কাউকে ছাড় দেয় না। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ই যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন বিভিন্ন প্রজাতির কৃমিতে। বিশেষ করে থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম এবং হুকওয়ার্মের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, কিছু কৃমির ডিম (যেমন পিনওয়ার্ম) এতটাই সূক্ষ্ম যে তা খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যেভাবে শরীরে প্রবেশ করে কৃমি

অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই কৃমি সংক্রমণের প্রধান কারণ। সাধারণত যে মাধ্যমগুলো দিয়ে কৃমি শরীরে ছড়ায়:

  • দূষিত খাবার ও পানি: অনিরাপদ পানি পান বা অপরিষ্কার সবজি ও কাঁচা দুধের মাধ্যমে।

  • অপরিচ্ছন্ন হাত: খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত না ধোয়ার অভ্যাস।

  • পরিবেশগত কারণ: খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা বা অপরিষ্কার সুইমিং পুলে গোসল করা।

  • পোষ্য প্রাণী: ঘরে থাকা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর হাত পরিষ্কার না করা।

শরীরের কী ক্ষতি করে?

কৃমি মূলত অন্ত্রে অবস্থান করে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয়। এর ফলে রক্তাল্পতা, চরম দুর্বলতা এবং হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু কৃমি যকৃত বা ফুসফুসে সিস্ট তৈরি করে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি কৃমি মস্তিষ্কে পৌঁছে গেলে মারাত্মক স্নায়বিক সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।

সতর্ক হওয়ার ৫টি লক্ষণ

শরীরে কৃমি আছে কি না তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করা জরুরি:

১. ক্ষুধার পরিবর্তন: হঠাৎ করে ক্ষুধা অনেক বেড়ে যাওয়া অথবা একদম কমে যাওয়া। ২. ওজন হ্রাস ও ক্লান্তি: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া এবং সবসময় শরীরে অবসাদ অনুভূত হওয়া। ৩. পেটব্যথা: কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনি অনুভব করা। ৪. মলে কৃমি: মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখতে পাওয়া। ৫. চুলকানি ও ত্বকের সমস্যা: বিশেষ করে রাতে পায়ুপথের চারপাশে চুলকানি হওয়া এবং ত্বকে হঠাৎ ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি দেখা দেওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

কৃমি নির্মূলে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ওষুধ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী:

  • খাবার গ্রহণের আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

  • শাকসবজি ও ফলমূল রান্নার আগে বা খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

  • বাইরে বের হলে জুতো পরার অভ্যাস করা এবং পুকুর বা ডোবার অপরিষ্কার পানি এড়িয়ে চলা।

  • পরিবারের সবার নিয়মিত বিরতিতে (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী) কৃমি নাশক ঔষধ সেবন নিশ্চিত করা।

অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত বা মল পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।