bogra times
ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের নমনীয়তা ও ঋণখেলাপিদের দাপট অগ্রহণযোগ্য: বদিউল আলম মজুমদার

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক : আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা, ঋণখেলাপিদের সুযোগ প্রদান এবং নির্বাচনি ব্যয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টাকার খেলা ও নমনীয়তা বজায় থাকলে এই নির্বাচনও বিতর্কিত হতে বাধ্য।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে যে নমনীয়তা দেখাচ্ছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ইসির এক সদস্যের মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন,

“ইসির একজন সদস্য বলেছেন—মনোনয়ন বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। এর মানে স্পষ্ট যে ওই ব্যক্তি ঋণখেলাপি। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই হতে পারে না।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কি ভবিষ্যতেও এমন আচরণ করবে? যদি তাই হয়, তবে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

এআই ও অপতথ্যের ঝুঁকি

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুজন সম্পাদক। তিনি আশঙ্কা করেন:

  • মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বা জীবিতকে মৃত দেখিয়ে অপপ্রচার চালানো হতে পারে।

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। এসব মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনকে আরও সজাগ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি।


পোস্টাল ব্যালট ও সহিংসতার শঙ্কা

নির্বাচনি ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে সুজন। বদিউল আলম মজুমদারের মতে, এই ব্যালট পুরো নির্বাচনি ফলাফলকে বিতর্কিত করে দিতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অসহিষ্ণু আচরণ’ নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। প্রার্থীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া বা ময়লা পানি ফেলার মতো ঘটনাগুলো বড় ধরনের সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সুজনের প্রধান পর্যবেক্ষণ ও দাবি:

১. ব্যয় পর্যবেক্ষণ: প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করার জন্য সুজন যে সুপারিশ করেছিল, কমিশন তা উপেক্ষা করেছে। ২. অবাধ পরিবেশ: সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ৩. কঠোর নিয়ন্ত্রণ: পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ার আগেই সরকার ও কমিশনকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুশিয়ারি দেন যে, অতীতের ভুল ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে।


সূত্র: সংবাদ সম্মেলন (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি)