bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বগুড়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

বগুড়া প্রতিনিধিঃ-
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভেজাল তাল মিসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা

বগুড়া,
নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুখাদ্য (তাল মিসরি) উৎপাদনের অভিযোগে বগুড়া শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের আটাপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, ‘আবিদ ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটি টেক্সটাইল রং ব্যবহার করে তাল মিসরি উৎপাদন করছিল। এ ছাড়া অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, নকল মোড়কে পণ্য মোড়কজাতকরণ এবং চানাচুর, সেমাই ও বুন্দিয়া তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।

আদালতের রায়

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ স্বীকার করে নিলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩, ২৭, ৩২(গ) ও ৩৩ ধারায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অনিরাপদ শিশুখাদ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ। এ সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেলসহ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক নিরাপত্তায় ছিল বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল।

কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা

জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল জানান, জনস্বার্থে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির মতো অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গেলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য শিশুসহ সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা নিয়মিত এ ধরনের মনিটরিং ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি জানান।

সচেতনতা ও করণীয়

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক খাদ্য কেনার আগে মোড়কের গায়ে বিএসটিআই চিহ্ন, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে দেখে কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোনো প্রকার ভেজাল খাদ্যের তথ্য পাওয়া গেলে ১৬১৫ নম্বরে ফোন করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।