bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলা খেজুর ২২০ টাকা ও বিদেশি ৫০০-১৫০০, শুল্ক কমলেও স্বস্তি নেই বাজারে

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক:
রমজান এলেই বেড়ে যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের চাহিদা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোজায় খেজুরের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার শুল্কছাড় দিলেও বাজারে তার কোনো সুফল মেলেনি। বরং রমজানের আগেই চড়া হয়ে উঠেছে এই পণ্যের বাজার।

গত ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এরপর দেশে পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি হলেও দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাধারণ মানের খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা এবং ভালো মানের খেজুরের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজারের চিত্র

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারির চেয়ে খুচরায় দাম বাড়ার প্রবণতা অনেক বেশি। পাইকারি বাজারে যেখানে প্রতি কেজি জাহিদি খেজুরের দাম বেড়েছে ২০-৩০ টাকা, সেখানে খুচরা বাজারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-৮০ টাকা। পাইকারিতে ২০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া পণ্যই খুচরায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ক্রয়ের তালিকায় থাকা খেজুরের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী:

  • বাংলা খেজুর (সবচেয়ে কম দামি): ২২০ টাকা প্রতি কেজি

  • জাহিদি খেজুর: ২৬০-২৮০ টাকা প্রতি কেজি

  • দাবাস খেজুর: ৫৫০-৫৭০ টাকা প্রতি কেজি

উচ্চ মূল্যের খেজুরের বাজারও অস্থির। খুচরা বাজারে বরই ৪৮০-৬০০ টাকা, কালমি ৭০০-৮০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০-১০০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০-১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০-১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দাম খুচরায় ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে, যেখানে পাইকারি বাজারে বেড়েছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকা।

কেন বাড়ছে দাম?

সরকার শুল্ক কমালেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কছাড় কার্যকর হতে সময় লেগেছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও আমদানিকারকরা এর আগেই উচ্চ শুল্কে পণ্য আমদানির ক্রয়াদেশ দিয়ে ফেলেছিলেন।

আমদানিকারক শামছুল ইসলাম এশা বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষে এ প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এর সুবিধা পেতে আরও একমাস সময় লেগেছে। যেখানে এর আগেই চড়া দামে ব্যবসায়ীরা খেজুর কেনার ক্রয়াদেশ দিয়েছেন, যা চড়া শুল্কে খালাস হয়েছে। সেজন্য শুল্কছাড়ের সুবিধা মিলছে না।’

এছাড়া শেষ মুহূর্তে বন্দর ধর্মঘটের কারণে সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়া এবং নির্বাচনের ছুটিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি পরিস্থিতি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রমজানে সারাদেশে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। গত ২৩ ডিসেম্বর খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

শুল্কছাড়ের আগে ও পরে গত চার মাসে মোট ৪৭ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে। পরিমাণে এই আমদানি আগের বছরের তুলনায় কম নয়, তারপরও বাজারে দাম না কমার পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন অনেকে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের ভূমিকা

ফল আমদানিকারক ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার খেজুরের দাম কিছুটা বাড়লেও গত বছরের তুলনায় কম আছে। আর পাইকারির চেয়ে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দাম বাড়াচ্ছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাইকারি বাজারে দামের তুলনায় খুচরা বাজারে অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দুর্ভোগ তৈরি করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধে বাজার তদারকি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকার শুল্ক হ্রাস করে খেজুরের বাজার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও, আমদানিতে সময়ক্ষেপণ ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ক্রেতারা এখনও স্বস্তি পাচ্ছেন না। রমজানের বাকি সময়ে বাজার পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভোক্তারা।


  • প্রতিবেদনটিতে তথ্যের কোনো তারতম্য বা বানান ভুল সংশোধন করে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  • আগের বার্তায় “বাংলা খেজুর ২২০ টাকা” ও “জাহিদি ২৬০-২৮০ টাকা” এই তথ্যগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

  • নিউজটিতে পাইকারি ও খুচরা বাজারের পার্থক্য, সরকারের নীতি ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য—সব দিক সমন্বয় করা হয়েছে।