bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজশাহী মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীনঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মহানগর যুবদলের ৪১টি ওয়ার্ডে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলের অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে নানা অভিযোগ ও হতাশা প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশক্রমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিটি যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশের পরপরই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ত্যাগী বাদ, বিতর্কিতদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ:
একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, কমিটিতে হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ও নির্যাতিত ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়ায় তৃণমূলে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কর্মীসভায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা অপকর্মে জড়িত কাউকে রাখা হবে না। কিন্তু বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

সার্চ কমিটির মতামত নেওয়া হয়নি:
রাজশাহী মহানগর যুবদলের সিনিয়র ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক ও সার্চ কমিটির আহ্বায়ক মো. রফিকুল হক ট্রফি নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, প্রকাশিত ওয়ার্ড কমিটি প্রণয়নে সার্চ কমিটির কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি লেখেন, ‘এই কমিটির ভালো-মন্দের দায়ভার তৎকালীন আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের।’

মহানগরের পরিচিত ত্যাগী নেতা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনির পোস্টে মন্তব্য করে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের ত্যাগী কর্মীদের নাম তালিকায় নেই কেন? কোন বিবেচনায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?’ জানা গেছে, পরবর্তীতে সেই মন্তব্য মুছে ফেলা হয়।

রাজশাহী মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হাসান আরও তীব্র অভিযোগ করে বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা-হামলা খাওয়া ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক ঢোকানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় নেতার তদন্তের আশ্বাস:
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা নজরে নিয়েছি। প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুজনকে খসড়া হিসেবে রাখা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

রাজশাহী মহানগর যুবদলের এই আংশিক কমিটি ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা, ত্যাগীদের মূল্যায়ন এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।