bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে ‘দৌড় পরিবার’র দুই দশক: অবহেলিত মানুষের পাশে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
মানবসেবা ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে শেরপুরের সামাজিক সংগঠন ‘দৌড় পরিবার’। ২০০৬ সালে শেরপুরের ২০০২ ব্যাচের এসএসসি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

সংগঠনটির নানা উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—খামারকান্দি ইউনিয়নের শুভগাছা গ্রামের খলিলুর রহমান এবং শেরপুর পৌর শহরের শ্রীরামপুরপাড়ার জাহিনুর ইসলামকে জীবিকায়ন সহায়তা হিসেবে অটোরিকশা প্রদান। কুসুম্বী ইউনিয়নের কেল্লাপোষী গ্রামে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুস সুফফা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন ও অজুখানা নির্মাণ। এ ছাড়া বাগড়া কলোনী গ্রামের ইংরাজ আলীকে টিউবওয়েলসহ স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয় নির্মাণ করে দেওয়া এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী আলমগীর (কানা ফকির)কে স্বাবলম্বী করতে একটি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা হয়।

সংগঠনটি নিয়মিতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরণ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় গরিব-অসহায়দের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী প্রদান এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সহায়তা প্রাপ্ত খলিলুর রহমান বলেন, “দৌড় পরিবারের দেওয়া অটোরিকশা আমার পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করেছে। আজ আমি নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।”

আলীও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “টিউবওয়েল ও শৌচালয় পেয়ে আমাদের পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে। দৌড় পরিবারের এই মহতি উদ্যোগ আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে।”

সংগঠনের সদস্য ডা. ইকবাল হোসাইন ছনি, রেজওয়ানুল আলম রাজন, মো. খোরশেদ আলম লিখন ও সৌরভ হাসান মাসুম বলেন, “আমাদের চেষ্টা হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বাবলম্বী করা। বন্ধুত্ব ও মানবিকতার ভিত্তিতে আমাদের এই কাজ চলবে, আজীবন।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দৌড় পরিবারের মতো সংগঠনগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এমন কাজ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে পারে। শেরপুরের মানুষ মনে করে, দৌড় পরিবার শুধু সহায়তা নয়, আস্থা ও ভালোবাসার বন্ধনও গড়ে তুলছে।